ন্যাভিগেশন মেনু

সরকারি সম্পত্তি নজরদারিতে ভূমি ডাটাব্যাংক ব্যবহার করা হবে: ভূমিমন্ত্রী


সারাদেশের সরকারি সম্পত্তি সুষ্ঠু নজরদারিতে ভূমি ডাটাব্যাংক ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি বলেন, এতে সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার ও দখলদারিত্ব কমে আসবে।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই ডিজিটাল ভূমি তথ্যব্যাংক’ তথা ‘ভূমি ডাটাব্যাংক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, শতভাগ খাসজমি চিহ্নিতকরণ, ছবিসহ খাসজমি, অর্পিত ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি, সায়রাত মহালের শক্তিশালী ডাটাবেজ তৈরি করে জনগণের জন্য তথ্য উন্মুক্তকরণসহ নথি আর্কাইভ করে ভূমি তথ্যব্যাংক তৈরি করা হয়েছে। অনলাইন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাসজমি বন্দোবস্ত, জলমহাল, বালুমহাল ও হাটবাজার ইজারা দিয়ে ই-ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে খুলনা জেলা প্রশাসন উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ভূমিসেবা প্রদানে সরাসরি উপস্থিতির হার কমিয়ে এনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যতো বেশি সেবা প্রদান করা যাবে ভূমি সম্পর্কিত দুর্নীতি ততো কমে আসবে।

ভূমিমন্ত্রী ৪ কোটির উপর খতিয়ান অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় এ ধরণের উদ্যোগের কারণে বর্তমানে ভূমি সেক্টরে অনেক স্বচ্ছতা এসেছে। এ সময় তিনি জলমহাল বরাদ্দ দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সিস্টেম উন্নয়নের কারণে এখন প্রকৃত মৎসজীবীরা নির্বিঘ্নে জলমহাল বরাদ্দ পাচ্ছেন।

এ সময় ভূমিমন্ত্রী সবাইকে একটু ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমরা টেকসই ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থা স্থাপনের চেষ্টা করছি, যা কিছুটা সময় সাপেক্ষ। আমরা এমনভাবে সিস্টেম উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি যেনো তা ব্যক্তিবিশেষের উপর নির্ভর না করে।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ভূমি মন্ত্রণালয় তার অংশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভূমিমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ জানান, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ও ই-নামজারি দেশব্যাপী শতভাগ চালু করা সম্ভব হলে ৫০ শতাংশ সেবাগ্রহীতার ভূমি অফিসে যাতায়াতের প্রয়োজন হবেনা। 

তিনি বলেন, খুলনা জেলা প্রশাসন যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে অধিকতর উপযোগী করে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত সারাদেশে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন - ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা কামাল, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো: ইসমাইল হোসেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার দাস, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ হারুনুর রশীদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, প্রায় ২ বছর ধরে ডাটাবেজ, আর্কাইভ, সফটওয়্যার এবং অ্যাপ তৈরি করার মাধ্যমে খুলনায় বাস্তবায়িত 'ভূমি তথ্যব্যাংক' উদ্যোগটি একদিকে যেমন ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, খাসজমি রক্ষা, অর্পিত সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারি স্বার্থ রক্ষা করছে, অন্যদিকে সকল জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিসেবার নিশ্চয়তা দান করে সরকারের জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হচ্ছে। 

ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাওয়াসহ এ উদ্যোগের ফলে খুলনা জেলায় অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, জলমহাল, হাটবাজার এবং খাস জমির ছবিযুক্ত তথ্য টেকসইভাবে সংরক্ষণ এবং সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া উক্ত জেলায় বিভিন্ন উৎস থেকে রাজস্ব আদায়ের হার ক্ষেত্রবিশেষে ১৯ শতাংশ থেকে ২১৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এডিবি/