NAVIGATION MENU

শুভ জন্মদিন ‘বাকের ভাই’


‘কোথাও কেউ নেই’ এর কালজয়ী বাকের ভাই চরিত্র রূপায়নকারী অভিনেতা এবং সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ৭৪তম জন্মদিন আজ।

১৯৪৬ সালের আজকের দিনে নীলফামারী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তি এই অভিনেতা।

পিতা আবু নাজেম মোহাম্মদ আলী ও মাতা আমিনা বেগম। স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁর পরিবার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৭২ সালে তৎকালীন বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক চিত্রালীতে কর্মজীবন শুরু করেন আসাদুজ্জামান নূর। এক বছর পর ছাপাখানায় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দূতাবাসের (বর্তমানে রাশিয়া) প্রেস রিলেশন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।

আসাদুজ্জামান নূর রাজনীতিতে যোগদান করেন ১৯৬৩ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর যোগ দেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। এরপর দীর্ঘদিন প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে নিজেকে বিরত রেখে সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন।

১৯৯৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আবারও প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি নীলফামারী-২ আসন থেকে এ নিয়ে চারবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও ।

আসাদুজ্জামান নূরের অভিনয় জীবনের শুরু হয় ১৯৭২ সালে ‘নাগরিক’ নাট্যদলের মাধ্যমে। এই নাট্যদলের ১৫টি নাটকে তিনি ৬০০ বারের বেশি অভিনয় করেছেন। অভিনয় দিয়ে মুগ্ধ করেছেন টেলিভিশন ও সিনেমায়ও। টেলিভিশনে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘এইসব দিনরাত্রি’ (১৯৮৫), ‘অয়োময়’ (১৯৮৮), ‘কোথাও কেউ নেই’ (১৯৯০), ‘আজ রবিবার’ (১৯৯৯) ও ‘সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড’ (১৯৯৯)। রেডিওতে প্রচারিত তাঁর নাটকের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। টেলিভিশনের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ‘শঙ্খনীল কারাগার’ (১৯৯২) ও ‘আগুনের পরশমণি’ (১৯৯৪)।

এত সব নাটক আর সিনেমার ভিড়ে আসাদুজ্জামান নূর আজও কালজয়ী সেই ‘বাকের ভাই’ হিসেবে বেঁচে আছেন দর্শক হৃদয়ে। সেই বাকের ভাই, যাঁর জন্য ২৭ বছর আগে ঢাকার রাজপথে ফাঁসি না দিতে মিছিল হয়েছিল।

 এস এ/ওআ