ন্যাভিগেশন মেনু

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী ২৬ ফেব্রুয়ারি


স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনা বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি)।

তিনি ১৯৩৬ সালে এদিনে নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ, মা জেন্নাতুন্নেছা।

জন্মস্থান মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়।

সৈনিক জীবনের কঠিন কর্তব্য দায়িত্ববোধ থেকে বিচ্যুত না হয়ে জীবনের শেষ মূহূর্ত পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীকে প্রতিরোধ ও সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে নিয়ে এগিয়ে গেছেন নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে। তার সে চেষ্টা সার্থক হয়েছিলো। নিরাপদে ফিরতে পেরেছিল সহযোদ্ধারা। শুধু ফিরে আসেননি নূর মোহাম্মদ।

১৯৭১ সালের এই দিনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে তিনি শাহাদৎবরণ করেন। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

নূর মোহাম্মদ ছিলেন বাবা-মা’র একমাত্র সন্তান। কিন্তু দরিদ্রতার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে তার অগ্রগতি হয়নি। তিনি বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান।

নূর মোহাম্মদ সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।  ১৯৬৯ সালে নূর মোহাম্মাদ ভর্তি হন ইপিআর বাহিনীতে (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)। তখন তাঁর বয়স ২৩ বছর। ট্রেনিংয়ের পর তার পোস্টিং হয় দিনাজপুরে। সেখানে ছিলেন ১৯৭০ সাল পর্যন্ত। তার পর আসেন যশোর হেড কোয়ার্টারে। ১৯৭১ সালে মার্চ মাসে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে সিপাহী নূর মোহাম্মাদ সৈনিক মনে নাড়া দেয় স্বাধীনতা আর স্বদেশপ্রেম। তাঁর সচেতন বিবেক বোধ তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের উদ্ধুদ্ধ করে।

যশোরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ৮নং সেক্টরের অধীনে। নূর মোহাম্মাদ প্রাতিষ্ঠানিক সামরিক প্রশিক্ষণ থাকায় একটি কোম্পানির প্রধান নিযুক্ত করে যশোরের সীমান্তবর্তী গোয়ালহাটি টহলের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

৭১ এর ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি গ্রামের সম্মুখযুদ্ধে একটি টহলের নেতৃত্ব দিচ্ছেলেন। সঙ্গী ছিল আরো ৪ জন সৈন্য। তারা পার্শ্ববর্তী ছুটিপুর পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর নজর রাখছিলেন।

পাকবাহিনী টের পেয়ে বিপদজনক অবস্থার মুখে টহলদারী মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করে। হানাদারদের এই পরিকল্পনা বুঝে উঠতেই নূর মোহাম্মদ সঙ্গীদের নিয়ে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করেন। শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। মারাত্মক আহত হলেন সঙ্গী নান্নু মিয়া।

তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হানাদারদের মর্টার শেল মারাত্মকভাবে জখম করে নূর মোহাম্মাদকে। মৃত্যু আসন্ন বুঝে তিনি সিপাহী মোস্তফা কামালের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আহত নান্নু মিয়াকে নিয়ে সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেন।

কোন উপায় না পেয়ে তারাও তাই করলেন, কিন্তু একটি এসএলআর রেখে যান মারাত্বক আহত কমান্ডারের কাছে। নূর মোহাম্মাদ মৃত্যুপথযাত্রী হয়েও এসএলআর নিয়ে শেষবারের মত ঝাঁপিয়ে পড়েন হানাদারদের উপর সেখানেই তিনি শহীদ হন।

এই বীরশ্রেষ্ঠের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নূর মোহাম্মদ নগরে সকালে কোরআনখানি, শোভাযাত্রা, স্মৃতিস্তম্ভে গার্ড অব অনার প্রদান, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ওয়াই এ/এডিবি