ন্যাভিগেশন মেনু

বাবা-মা ও দুই বোনের লাশ নিয়ে বাড়ি গেল শিশু মিম

এমন এক হৃদয় বিদারক ঘটনা, যা কিনা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। নিয়তির কাছে হার মেনে পুরো পরিবারকে জীবন দিয়ে এমন মর্মস্পর্শী ঘটনার জন্ম দিল। এক লাশ দেখতে যাবার পথে এক পরিবারের আরও চারজন লাশ হলো। আর এ ভারী বোঝা সারাজীবন কেঁদে বহন করতে হবে নয় বছরের মিম’কে।

দাদার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবা-মা ও দুই বোনের সঙ্গে ঢাকা থেকে খুলনার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল শিশু মিম। তবে দাদার লাশ দেখার আগেই মিমকে হারাতে হলো পরিবারের সবাইকে। জীবিত’র পরিবর্তে তাঁরাই লাশ হয়ে বাড়ি গেল।

গতকাল সোমবার সকালে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীতে চালকের অসতর্কতার জন্য একটি বাল্কহেডের সঙ্গে গিয়ে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি।

টাল সামলাতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। অন্য যাত্রীদের সঙ্গে মিমকে হারাতে হলো পরিবারের চার সদস্যকে। অভিশপ্তের সাক্ষী হয়ে বেঁচে রইলো অবুঝ মিম।

মিমকে উদ্ধারকারী নৌ পুলিশের কনস্টেবল মেহেদী বলেন, 'তিনি শিশুটিকে নদীতে ব্যাগ ধরে ভাসতে দেখেন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করেন। মিমের হাত ও চোখের কাছে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

দ্রুত তাঁকে শিবচরের পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মর্মান্তিক ঘটনার পর পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি শিশু মিমকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়।

অবুঝ মিম দুর্ঘটনায় বাবা মা ও দুই বোনের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে  কান্নায় ভেঙে পরে। শিবচর ইউএনও অফিসের এক কর্মচারী ও বাংলাবাজার স্পিডবোট ঘাটের নৈশ প্রহরী দেলোয়ার ফকিরের তত্বাবধানে শিশুটি হাসপাতালের একটি কক্ষে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল তখন।

শিশু মিম জানায়- এই দুর্ঘটনায় তাঁর বাবা মনির হোসেন, মা হেনা বেগম, ছোট দুই বোন সুমি (৫) ও রুমি (৩) মারা গেছে।

তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খুলনার তেরখাদায় এ পরিবারের বাড়ি। সেখানেই যাচ্ছিলেন তাঁরা। 

অবুঝ মিম মাঝে মাঝেই মা মা বলে কেঁদে উঠছে। কান্নারত অবস্থায় মিম বলে, 'আমরা দাদু বাড়ি যাচ্ছিলাম। দাদা মারা গেছে। তাকে দেখতে। আমার আর কেউ নাই।'

বাবা-মা ও দুই বোনের মরদেহ নিয়ে খুলনায় গেল শিশু মিম। দাদার মরদেহের সঙ্গে যুক্ত হলো পরিবারের আরও চার জনের দেহ।

শিবচরের এ কাণ্ডে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এস এস