ন্যাভিগেশন মেনু

বর্ষবরণে বাজির তাণ্ডবে রোমে অসংখ্য পাখি’র শব

পৃথিবী তো মানুষের একার নয়। নানা ধরণের জীব-জন্তু নিয়ে আমাদের বসবাস। কিন্তু সভ্যতার বয়স যত বেড়েছে, ততই যেন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মানুষের খামখেয়ালিপনা। আর তার জেরে বিপন্ন হয়েছে বাকিদের জীবন। 

সে অন্য কোনও প্রাণী হোক বা গাছপালা। মানুষের নিষ্ঠুর আনন্দ উদযাপনের শিকার হতে হচ্ছে সবাইকেই। এই নিষ্ঠুরতার এক নয়া দৃষ্টান্ত দেখা গেল রোমে । সেখানকার পথে পথে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে নিরীহ পাখিদের শব। যা দেখে শিউরে উঠেছেন নেটিজেনরা।

মৃত পাখিগুলির বেশির ভাগই ময়না। ঠিক কীভাবে ওই পাখিগুলির  মৃত্যু হয়েছে তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে নিউ ইয়ার্স ইভে নাগাড়ে বাজি ফাটানোর ফলশ্রুতিই যে পাখিগুলির মৃত্যুর কারণ তা নিশ্চিত। 

সেখানকার এক প্রাণী অধিকার সংগঠনের মুখপাত্র লোরেন্দানা ডিজিলো জানাচ্ছেন, ‘‘হতে পারে ওরা ভয় পেয়েই মারা গিয়েছে। বাজির শব্দ ও আলোর ঝলকানিতে আতঙ্কিত হয়ে উড়তে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে কিংবা আশপাশের বাড়ির দরজা-জানলা বা ইলেকট্রিকের তারে ধাক্কা খেয়ে। আবার এমনও হতে পারে ভয়ে ওরা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিল।

রোমা টার্মিনি রেল স্টেশন  লাগোয়া ওই রাস্তায় অনেক গাছ রয়েছে। অনুমান, বাজির শব্দে আতঙ্কিত হয়েই রাতের বেলা নিজেদের বাসা থেকে বেরিয়ে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল পাখিগুলি। 

এমন ভয়ঙ্কর মৃত্যুমিছিলের তীব্র নিন্দায় মুখর গোটা বিশ্বের পশুপাখিপ্রেমী মানুষেরা। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে করোনার কারণে নাইট কারফিউ চলছে, সেখানে অত মানুষ রাস্তায় বেরোলেন কী ভাবে। কেন পুলিশ-প্রশাসনের কড়াকড়ি ছিল না? 

অবিলম্বে সমস্ত ধরনের বাজির কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার দাবিতে মুখর পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই এই সময় নিরীহ পশুপাখিদের প্রবল সমস্যার মুখে পড়তে হয় বাজির কারণে। একসঙ্গে এতগুলি পাখির মৃত্যু যেন সেই সমস্যার কালো চেহারাটা স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলল।

এস এস