ন্যাভিগেশন মেনু

নোটিশ ছাড়াই লিজ নেওয়া জলাশয়ের বাঁধ উচ্ছেদের অভিযোগ


পাবনার সাঁথিয়ায় কোনো নোটিশ ছাড়াই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাছ চাষের জন্য লিজ নেওয়া ক্যানেলের অর্ধশত বাঁধ উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ব্রিজ এলাকা থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার রঘুরামপুব ব্রিজ পর্যন্ত আই-৩, এস-১৯ আত্রাই ক্যানেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক বাঁধ উচ্ছেদ করা হয়।

মৎস্যচাষীদের দাবি, কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হচ্ছে লিজ নেওয়া জলাশয়ের বাঁধ। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মাধপুর থেকে ক্যানেলের বাঁধ উচ্ছেদের কাজ শুরু করে। এতে মৎস্যচাষীদের বৈধ ও অবৈধ লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে যায়।

সাঁথিয়া উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মজিদ ড্রাইভারের ছেলে বিল্লাল জানান, 'পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রায় ৫ একর জলাশয় বৈধভাবে লিজ গ্রহণ করি। মাছ চাষের প্রয়োজনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক সাঁথিয়া শাখা খেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করি। কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই আমার জলাশয় থেকে বাঁধ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে আমার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।'

সুজানগরের দুর্গাপুর গ্রামের আসলাম জানান, 'ক্যানেলের বাঁধ উচ্ছেদ করায় আমার প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।'

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মাহমুদুল হাসান আজকের বাংলাদেশ পোস্ট জানান, 'ক্যানেলপাড়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে ক্যানেল দখল করে বাঁধ দিয়ে মাছচাষ করার সাধারণ মানুষ গোসল থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহার করতে পারেন না। এ ছাড়াও বন্যাকালীন সময়ে পানি সরবরাহ করা কঠিন হওয়ায় জেলা আইনশৃংখলা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ি বাঁধ অপসারণ চলছে।'

তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে কোনো মৎস্যচাষীকে নতুন করে লিজ দেওয়া হয় নাই এবং ভবিষ্যতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।'

এদিকে ক্যানেল থেকে বাঁধ উচ্ছেদের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে এলাকাবাসী জানান।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহীন রেজা, পাউবোর সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন, উপ-প্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আ. মমিন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

এমএকে/ ওয়াই এ/এডিবি