NAVIGATION MENU

কাঁঠালবাড়ী হাওর দ্বীপে বাস্তুসংস্থান ও প্রাণবৈচিত্র সংরক্ষণে শাবিপ্রবির গবেষকদের উদ্যোগ


সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে অবস্থিত কাঁঠালবাড়ী হাওর দ্বীপে বাস্তুসংস্থান ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে গবেষণা কর্ম শুরু করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল।

এ লক্ষ্যে সম্প্রতি হরিপুর ও গাছবাড়ীর মাঝখানের বড়হাওরে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন এই এলাকাটি পরিদর্শন করেছে গবেষক দলটি। এই গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ মজুমদার।

গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন - একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া ও সহকারী অধ্যাপক জাভেদ কায়সার ইবনে রহমান।

পরিদর্শনের সময় এই দলের সাথে থেকে সহযোগিতা করেন শাবিপ্রবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের মহিউদ্দিন জাবের ও জুবায়ের আহমদ।

কাঁঠালবাড়ী নিয়ে গবেষণা কর্মের উদ্যোগ গ্রহণ করেন শাবিপ্রবির সহযোগী অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট হিসেবে কাঁঠালবাড়ীর আলোচনা সামনে নিয়ে আসেন কিছু সাংবাদিক। হাওরের মাঝখানে বসতির ইতিহাস, জীববৈচিত্র থেকে সেটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেমন গৌড় গবিন্দের আমত্যদের কর্তৃক ‘হাটকেশ্বর দেবতা’ লুকানোর বিষয়টি ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে একটা অ্যাসাইনম্যান্ট উপলক্ষ্যে গত ১০ আগস্ট আমরা কাঁঠালবাড়িতে প্রাথমিক ভিজিট সেরেছি। মূলত ওখানকার বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে সেখানে আমাদের ভিজিট ছিল।”

শাবিপ্রবির এই শিক্ষক বলেন, “বড়হাওরের মধ্যে একটি এলাকায় অনেকগুলো আলাদা আলাদা টিলা, যে টিলাগুলোর কয়েকটিতে জনবসতি রয়েছে; এটা একটা নতুন বিষয়। সাধারণত হাওরের মাঝখানে টিলা বা পাহাড়ের দেখা মেলে না। কাঁঠালবাড়ি এই দিক থেকে ব্যতিক্রম। ফলে কেউ কেউ আদর করে এর নাম দিয়েছেন ‘জল-পাহাড়ের কাঁঠালবাড়ি’। টিলাগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছ-গাছালি এবং পাখ-পাখালি। টিলার কোলঘেষে হরেক রকমের গাছ বছরের বড় একটা সময় পানিতে অর্ধ-ডুবন্ত থাকে। এটা একটা উপভোগ্য বিষয়।”

সেখানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে আ ফ ম জাকারিয়া বলেন, “কাঁঠালবাড়িতে পরিদর্শনের সময় আশ্চর্যজনকভাবে আমরা কোন কবরস্থান/কবর এর চিহ্ন পাইনি। অনুসন্ধানে জানা গেলো, কেউ মারা গেলে ৩/৪ ঘন্টা নৌকায় চলা দুরত্বে অবস্থিত তাদের পুর্ব-পুরুষের কবরস্থানে (তালবাড়ি,পারকুল,বীরদল) নিয়ে সমাধিস্থ করা হয়। তারা অনেকটা ‘অন্ত-ডায়াসফোরিক’ ক্যারেক্টারের মধ্যে এখনো বিদ্যমান। এ জন্যে তাদেরকে পুর্ণাঙ্গ কমিউনিটি বলা যাবে কিনা তা নিয়েও বিস্তর পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।”

তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে বড়হাওরের চতুর্পাশে বড় বড় ফার্ম/ফার্ম হাউস একটি আরেকটির গায়ে ধাক্কা দিতেছে সাথে আছে ব্রিক ফিল্ড কোম্পানিজ। শুনলাম কোন এক এনার্জি কোম্পানি ‘লুন্টির পাহাড়’ (কাঁঠালবাড়ী) সংলগ্ন এলাকার প্রায় একহাজার বিঘা কিনে ফেলেছে, তখন ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ এর প্রভাব নিয়ে সচেতন একটি টিমের সদস্য হিসেবে, বড়হাওরের ভেতরের এই আলাদা আলাদা টিলা গুলোকে পর্যটনকে উৎসাহিত করার পুর্বে অনেক কিছুই বিবেচনায় রাখতে হবে। তারা আবারও সেথায় ভিজিট করবেন বলে জানান এই শিক্ষক।”

কাঁঠালবাড়ী হাওর দ্বীপ নিয়ে প্রথম লিখেন এবং পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন সাংবাদিক এহসানুল হক জসীম। তিনি বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল সেখানে ভিজিট করার ফলে কাঁঠালবাড়ী হাওর দ্বীপের গুরুত্ব আরও বাড়লো। যদিও ওই টিম পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়টি মাথায় রেখে সেখানে যাননি। শাবিপ্রবির গবেষক দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ওখানকার বাস্তুসংস্থান ও প্রাণবৈচিত্র রক্ষায় শাবিপ্রবির গবেষকরা নিশ্চয়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। 

পরিবেশ কর্মী আব্দুল হাই আল হাদী বলেন, কেবলই পর্যটন সম্ভাবনা কিংবা প্রাণবৈচিত্রের দিক থেকেই নয়; ঐতিহাসিক দিক দিয়েও কাঁঠালবাড়িকে বিবেচনা করতে হবে। কারণ এখানে রাজা গৌড় গোবিন্দের ‘হাটকেশ্বর দেবতা’ লুকিয়ে রাখারও একটা বিষয় রয়েছে। তিনিও শাবিপ্রবির গবেষক দলকে সেখানে ভ্রমণ করার জন্য ধন্যবাদ জানান।

এডিবি/