NAVIGATION MENU

কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী আজ


মধ্যযুগীয় উপনিবেশিক সাহিত্যের বেড়াজাল থেকে বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতায় মুক্তি দিয়েছিলেন কবিগুরু। বাঙলির মানসপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বত্রই বিরাজমান। তিনি আমাদের অহংকার। বাঙালির জীবনের যত ভাবনা, বৈচিত্র্য আছে, তার পুরোটাই লেখনী, সুর আর কাব্যে তুলে ধরেছেন কবিগুরু।

শুক্রবার (৮ মে) বাংলা সাহিত্যের অমর কবি, কবিকুল শিরোমণি কবিগুরু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী। আজ ২৫ বৈশাখ। প্রতি বছর এ দিনটিতে দেশের শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনে নানা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তবে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে এবার ঘরে বসেই কবির রচিত সেই ‘হে নূতন’ গানখানি আমরা গাইতে গাইতে কবির পৃথিবীতে আগমনকে ব্যক্ত করতে পারি।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের পথিকৃত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ সৃষ্টি জীবনে নিজের জন্ম নিয়ে তেমন কোনও গান কিংবা কবিতা রচনা করেননি। শুধুমাত্র ‘হে নূতন’ গানটিতে তিনি তাঁর জন্মক্ষণকে স্মরণ করেছেন।

যেখানে তিনি বলেন, ‘তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন-সূর্যের মতন। রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন। উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে-চির-নূতনেরে দিল ডাক পঁচিশে বৈশাখ।’

কবিগুরুর সাহিত্যকর্ম, সঙ্গীত, জীবনদর্শন, মানবতা, ভাবনা- সবকিছুই সত্যিকারের বাঙালি হতে অনুপ্রেরণা দেয়। কবিগুরুর ১৫৯তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

কবিগুরু ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন। বাংলাভাষা সাহিত্যকে তিনি নিয়ে গেছেন বিশ্ব দরবারে।

বাঙালির উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘তুমি নিছক বাঙ্গালী নও, তুমি বিশ্বচরাচরের অংশ।’ সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রেমের মধ্যে বাঁচতে বলেছেন রবীন্দ্রনাথ। সঙ্গে যুক্ত করতে বলেছেন- প্রাণীজগৎ, নিসর্গ, প্রকৃতিকে । শুধু তাই নয়, শিল্পের জগত, কল্পনার জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের বিস্তার ঘটাতে বলেছেন । পাশাপাশি কাজ করেছেন কৃষক ও জনমানবের জন্যও।’

তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথের ছিল দেশ ভ্রমণের নেশা। আর তাই বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে থাকতেন তিনি। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে।

শৈশবে তিনি কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নরম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

কবিগুরু ৮ বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশে তিনি ইংল্যান্ড যান। সেখানে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি।

প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ১৮৮০ সালে কোনো ডিগ্রি না নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। ১৮৮৩ সালে ভবতারিণীর সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এদিকে বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী।

এর মধ্যেই চলতে থাকে তার সাহিত্যচর্চা। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন।

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলী রচনা করে ১৯১৩ সালে পান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। যার অর্থ দিয়ে তিনি এ দেশে শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দেয়ার উদ্দেশে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি ব্যাংক। ওপার বাংলায় গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন।

কর্মসুচিঃ এদিকে চলমান মহামারি করোনার কারণে জনসমাগম এড়াতে এবছর রবীন্দ্রজয়ন্তী ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই কবিগুরুকে স্মরণ করতে সরকারিভাবে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

আজ শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টায় বিটিভিতে এটি দেখানো হয়েছে। এটির সহযোগিতায় আছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

তবে কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ওই আসে মহামানব’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন সকাল ৯টায় ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে এটি দেখা যাবে। অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা করেছেন ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন। http:/ww/w.bit.ly/chhayanaut ঠিকানায় আয়োজনটি উপভোগ করা যাবে।

ওয়াই এ/ এডবি