ন্যাভিগেশন মেনু

অভয়নগরে কলেজছাত্র খুন, আটক ২


যশোরের অভয়নগর উপজেলায় মুক্তিপনের ৫০ লাখ টাকা না পেয়ে নুরুজ্জামান বাবু (২০) নামে এক কলেজছাত্রকে খুনের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের পুড়াখালী বাওড় থেকে ওই ছাত্রের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নুরুজ্জামান বাবু উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের পুড়াখালী গ্রামের ফকিরবাগান এলাকার ইমরান শেখের ছেলে। সে ধোপাদী এস এস কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম জানান, গত ২ জুন মঙ্গলবার নিহতের বাবা বাদি হয়ে অভয়নগর থানায় ছেলে নিখোঁজের একটি জিডি করেন। জিডির ভিত্তিতে ওই দিন রাতে পুড়াখালী গ্রামের সরোয়ার খন্দকার মুরাদের ছেলে নিহতের বন্ধু রিফাত হোসেন আউসকে (১৯) আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ওয়াদুদ পাটোয়ারীর ছেলে রাজ্জাককে (৫৫) বুধবার (৩ জুন) ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানার রাজাপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয়।

আটক দুইজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুড়াখালী বাওড়ের পূর্ব পাড়ে কচুড়িপানার মধ্য থেকে নুরুজ্জামান বাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রাজ্জাক ও আউস কলেজ ছাত্র নুরুজ্জামান বাবু হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। আটক দুইজনকে আসামি করে হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানান ওসি।

পুলিশ জানায়, কলেজছাত্র বাবুর বাবা একজন সফল ব্যবসায়ী। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ জুন সোমবার রাতে আউস তার বন্ধু বাবুকে বাড়ি থেকে ফোন করে ডেকে বাওড়ের পাড়ে নিয়ে যায়। পরিকল্পনা মোতাবেক ঘুমের ওষুধ মেশানো কোমল পানীয় পান কারায় রাজ্জাক। কিছুক্ষণ পর বাবু ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার সময় তারা দুইজনে মিলে গলায় ফাঁস দিয়ে বাবুকে হত্যা করে। এরপর হাত-পা বেঁধে বাঁওড়ের কচুরিপানার মধ্যে মরদেহ লুকিয়ে রাখে। সেখানে বসেই তারা বাবুর বাবার নিকট ছেলের মুক্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় তার ছেলেক হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়।

নিহতের বাবা ইমরান গাজী বলেন, দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলে নুরুজ্জামান বাবু। আমার ছেলেকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে। ছেলেকে আর ফিরে পাবো না। কিন্তু ছেলে হত্যার বিচার হিসেবে আমি খুনিদের ফাঁসি দাবি করছি।

সিবি/এডিবি